অনলাইন থেকে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বর্তমান সময়ে ঘরে বসেই লোন পাওয়া সম্ভব। আমরা আজ এই পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করে দিবো কি কি মাধ্যমে আপনারা অনলাইন থেকে ঘরে বসেই লোন পেতে পারেন।
বিশ্ব এখন উন্নতির দ্বার প্রান্তে রয়েছে। আর সেই সাথে সাথে মানুষ তাদের বড় বড় সমস্যাকে ঘরে বসেই সমাধান করতে সক্ষম হচ্ছে। তারই একটি বিশেষ নজর হচ্ছে এই অনলাইন লোনের সিস্টেম।
আপনাদের এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা আপনাদের সহজ কিছু মাধ্যম সমন্ধে জানাতে চলেছি। যেখান থেকে আপনারা খুব সহজেই বাংলাদেশের মধ্যে জনপ্রিয় ব্যাংকগুলো থেকে ঘরে বসেই অনলাইন কে ব্যবহার করে সহজেই লোন নিতে পারবেন, এবং সেই লোনকে আবার অনলাইনের মাধ্যমেই সেটি পরিশোধ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ থেকে কোন কোন ব্যাংক থেকে অনলাইন লোন পাওয়া যায়
প্রাথমিক ভাবে বাংলাদেশের প্রায় অনেক ব্যাংক থেকেই লোন বা ঋন সেবাটি চালু রেখেছে, তবে সেখানে অনেকেই বিভিন্ন কঠিন সর্ত চাপিয়ে দেয়, যা সাধারন মানুষের জন্য লোন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হতে পারে। তবে যেহেতু আমরা সহজ মাধ্যম গুলো নিয়ে আলোচনায় আসবো, তাই সেই কঠিন মাধ্য়মগুলোকে এই তালিকা ভুক্ত করবো না।
সাধারনত আমরা অনলাইন লোনকে ৩ ভাগে ভাগ করে নিতে পারি, যেগুলোর বিস্তিত আমরা একটা একটা করে আলোচনায় নিয়ে আসতে পারি। যে ৩ টি ভাগে ভাগ করে নেওয়া যায়ঃ
১. মোবাইল ব্যাংকিং লোন
২. ব্যাংকিং লোন সেবা
৩. ক্রিপ্টো লোন সেবা
মোবাইল ব্যাংকিং লোন সেবা কি
মোবাইল ব্যাংক বলতে সহজে সেই সকল ব্যাংকিং সেবাকে বোঝানো হয়ে থাকে, যেগুলো আসলে মোবাইল কে লক্ষ্য করেই সেবা প্রদান করে। অর্থাৎ এই ব্যাংকের সকল কার্যকর্ম ই মূলত মোবাইলের মাধ্যমে সম্পুর্ন করা যায়।
বাংলাদেশের সেরা কিছু মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মধ্যে রয়েছেঃ
- বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং
- নগদ মোবাইল ব্যাংকিং
- রকেট মোবাইল ব্যাংকিং
- উপায় মোবাইল ব্যাংকিং
- ট্যাপ ট্যাপ সেন্ট
- এম ক্যাশ
আরো অনেকগুলো রয়েছে। তবে আমাদের লিস্টে সংক্ষিপ্ত ধারনা দিয়ে সহজে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এই পর্যায়ে আমরা এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা থেকে লোন পাওয়ার সমন্ধে কথা বলতে পারি।
কিভাবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কাজে লাগিয়ে লোন পেতে পারি
মোবাইল ব্যাংকিং সেবাটি খুব সহজ এবং মোবাইলের মাধ্যমে এটি পরিচালনা করা যায়। এক্ষেত্রে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। সব থেকে বড় সুবিধা হলো, এই সেবাটি কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই আবেদন করা যায় আর এক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট থাকলেই যথেষ্ট। আর বাড়তি কোন কাগজের প্রয়োজন হয় না।
যদি আপনার এমন কোন একটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি অ্যাকাউন্ট থাকে, যেখানে লোন সেবাটি চালু রয়েছে। তাহলে আপনাকে আর বাড়তি কোন কিছুই করতে হবে না। এক্ষেত্রে খুব সহজেই আপনি আবেদন করার মাধ্যমে লোন পেতে পারেন। তবে তাদের কিছু সর্ত থাকতে পারে, যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানির ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম নিতী হবে, এক্ষেত্রে আমরা সংক্ষিপ্ত ভাবে তাদের সমন্ধে আলোচনা করে দিবো।
আপনি যদি আরো বেশি কোন তথ্য জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে সরাসরি সেই ব্যাংকের অফিসিয়াল হেল্প সেন্টারে যোগযোগ করতে পারেন। তাদের সাথে আপনারা আপনাদের যাবতীয় সকল প্রশ্ন করতে পারেন এবং সেখান থেকে যেনে নিতে পারবেন।
বিকাশ থেকে লোন
বিকাশ থেকে লোন পাওয়া একটি সহজ মাধ্যম। তবে আমরা লক্ষ করেছি যে, বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার জন্য সই সকল অ্যাকাউন্ট কে বৈধতা দিয়ে থাকে, যেগুলো থেকে বেশি বেশি লেনদেন করা হয়। আর অনেক সময়ে ব্যাংকের কার্ডের মাধ্য়মে টাকা লেনদেন করলে সেই অ্যাকাউন্টগুলোকে অনুমোদন করে থাকে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে সকল অ্যাকাউন্ট থেকে কোন কিছুর পেমেন্ট করা হয়, সেই সকল অ্যাকাউন্টেও বিকাশ লোন চালু করা থাকে।
বিকাশ বিভিন্ন মাত্রায় লোন সেবাটি দিয়ে থাকে, তবে আমরা একটি বিজ্ঞাপন থেকে দেখতে পাই যে, বিকাশ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন দিতে পারে। যদিও এটি ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকে, প্রাথমিক সময়ে ৫০০ টাকা বা ১০০০ টাকা লোন সেবাটি চালু করা হয়।
বিকাশের লোনসেবাটি প্রথমবার চালু হলে, আপনি যদি সেটি ব্যবহার না করেন, তাহলে সেটি কিছু দিনের মধ্যেই আবার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তাছাড়াও যদি আপনি এক কালীন ব্যবহারের পরে আবার বহুদিন সেবাটি ব্যবহার না করেন, তাহলেও সেটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিকাশ থেকে লোন নিলে, সেখানে তেমন বেশি মুনফা দিতে হয় না। তবে এটি সঠিক সময়ে কিস্তিগুলো পরিশোধ না করতে পারলে আংশিক জরিমানা ধরতে পারে। আর বিকাশের এই লোনটি বিকাশ কোম্পানি থেকে পরিচালনা হয় না বরং এটি সিটি ব্যাংকের একটি সেবা যা বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের যৌথ ভাবে পরিচালিত।
নগদ এর মাধ্যমে অনলাইন লোন
বিকাশের মতোই আরেকটি জনপ্রিয় অনলাইন মোবাইল ব্যংকিং সেবা হচ্ছে নগদ। আমরা জানি নগদে বিভিন্ন ধরনের সুবধা দেওয়া হয়ে থাকে। আর এই সুবিধার মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং লোন বা অনলাইন লোনও একটি জনপ্রিয় সেবা।
নগদ মোবাইল ব্যাংকিং থেকে সহজেই লোন পাওয়া যায়, যা তারা বিভিন্ন ব্যাংকের আদলে দিয়ে থাকে। তবে ওটিও বিকাশের মতোই ঘরে বসে পাওয়া সম্বব আর এটিও ঘরে বসেই কিস্তিতে শোধ করা সম্ভব। তবে এই লোনের নিদিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ নেই।
নগদে লোন পেতে হলে আপনাকে একটি ন্যাশনাল পরিচয়ে ভেরিফাই করা নগদ অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। আর বেশ কিছুদিন সেখানে অ্যাকটিভিটি দেখাতে হবে, বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করার মাধ্য়মে এই নগদ অনলাইন লোনের বৈধতা পেতে পারেন।
প্রাথমিক সময়ে অল্প পরিমাণে লোন দিলেও এটি ধীরে ধীরে বাড়াতে পারে। এবং সঠিক সময়ে লোন পরিশোধ না করার কারনে বিভিন্ন মাত্রায় জরিমানা হতে পারে।
রকেট মোবাইল ব্যাংকিং সেবা থেকে অনলাইন লোন
বাংলাদেশের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবাগুলোর মধ্যে রকেটও একটি। এটি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের একটি সেবা। সাধারন মোবাইলের মাধ্যমে রকেটের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করা যায়। সেই সাথে এই রকেট মোবাইল ব্যাংকিং সেবাটি থেকে ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংক থেকে লোন পাওয়া যায়।
তবে রকেট মোবাইল ব্যাংক থেকে লোন পেতেও আপনাকে বেশি কোন কাগজের প্রয়োজন না হলেও রকেট অ্যাপে অ্যাকাউন্ট করতে হবে এবং সেখানে সকল বেশ কিছু দিনের অ্যাক্টিভিটি থাকতে হবে। সেই সাথে আপনাকে লেনদেনের ও কিছু অ্যাকটিভিটি থাকতে হবে, তাহলে আপনি রকেট অ্যাপ থেকে লোন পেতে পারেন।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনলাইন পরিষেবা
বাংলাদেশের অনেক বড় বড় মাত্রায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লোন প্রদান করে থাকে। আর সেগুলো ব্যাংকের সরাসরি কার্যকরমের মাধ্যমে দিয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ের সাথে সাথে আমরা উন্নত প্রযুক্তির সেবায় ঘরে বসেই সেই সকল ব্যাংক প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ ভালো পরিমাণে লোন পেতে পারি। বাংলাদেশের লোন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ হলোঃ
- BRAC Bank
- City Bank
- Dutch-Bangla Bank
- UCB (United Commercial Bank)
- IDLC Finance
আরো ইত্যাদি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অ্যাপ ব্যবহার করে সহজে অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই লোন পেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে লোন পেতে হলে অবশ্যই ব্যাংকে যেতে হবে। আর আপনাকে এই সকল ব্যাংক থেকে অনলাইনের মাধ্যমে লোন নিতে হলেও প্রাথমিক ভাবে তাদের ব্যাংকে গিয়ে একটি বৈধ অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
যখন আপনি তাদরে ব্যাংকে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে নিবেন, তার পরে কিছুদিন লেনদেন করার পরেই তারা আপনাকে সহজে অনলাইনের মাধ্য়মে ঘরে বসেই লোন নেওয়ার মতো সুযোগ সুবিধা প্রদানন করবে।
এবং আপনি আবার এই অ্যাপের ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করেই ঘরে বসে লোন পরিশোধ করতে পারেন বা কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন। কিন্তু অবশ্যই তাদের এই লোন পেতে তাদের বিশেষ কিছু সর্ত সাপেক্ষে আবেদন করে অপেক্ষা করতে হবে। তারা বিষয়টি সম্পুর্ন রূপে পর্যবেক্ষন করার পরে সেটি বৈধ বা অবৈধ ঘোষনা করবে।
ক্রিপ্টো থেকে লোন পাওয়ার উপায় কি
বর্তমান সময়ে ক্রিপ্ট কারেন্সি সমন্ধে সবার ই কম বেশি ধারনা রয়েছে। তবে সহজ ভাষায় বলতে গেলে ক্রিপ্টো মার্কেট সবার জন্য নয়। আর এখান থেকে বর্তমানে কিছু কিছু মার্কেট থেকে সহজে লোন পেতে পারেন। কিন্তু ক্রিপ্টো কারেন্সি থেকে লোন নিলে প্রচুর পরিমাণে মুনফা দিতে হবে। এই বিষয়ে আপনাকে খোজ খবর রেখেই ক্রিপ্টো থেকে লোন নিতে হবে।
যেহেতু অনলাইন লোন নিয়ে কথা উঠেছে, আর সেখানে আপনি বিভিন্ন মাধ্যম অবলম্বন করে অনলাইন থেকে লোন নিতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, যেন এমন কোন মাধ্যম থেকে আপনি লোন না নেন, যেখান থেকে লোন নেওয়ার ফলে পরবর্তিতে আপনাকে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়।
