প্রতিটি পরিবারেই কম্পিউটারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

Published:

সময়টা এখন টেকনোলজির। তাই টেক জগতে আমাদের টিকে থাকতে হলে কম্পিউটার আবশ্যক রূপের ভূমিকায় এসেছে। আমাদের এখন প্রয়োজন সবার ই নিজস্ব কম্পিউটার থাকা। তাহলে আর নতুন করে কোর্স করার প্রয়োজন হবে না, ছোট থেকে বা অল্প অল্প করেই যখন আমরা কম্পিউটার সঠিক ব্যবহার করতে পারবো, তখন আর আপডেট জানার জন্য আমার কোন কোর্সে ভর্তি হতে হবে না।

কম্পিউটার কেমন হতে হবে?

কম্পিউটার বলতে শুধউ ডেসকটপ কম্পিউটারকেই বোঝায় না বরং ল্যাপটপ, মোবাইল সহ ইত্য়াদি ডিভাইস ও কম্পিউটার ডিভাইসের একটি একটি গুরুত্বপূর্ন অধ্যায়। তবে এই কম্পিউটারের ব্যবহার যত কম বা ছোট অধ্যায়ের হবে, আপনার পরিবার যেন, ততটাই কম আপডেটের মধ্যে আটকে যাবে।

পরিবার থেকে যখন কোন হিরো কে তৈরি করতে চাচ্ছেন, তখন আপনার প্রয়োজন সেই সন্তানকে নিজস্ব একটি কম্পিউটারের মালিক করে দেওয়া, এক্ষেত্রে সেটি ডেসকটপ কম্পিউটার হলেই সব থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। আর যখন সকল সন্তানকেই একটি একটি হিরো হিসেবে তৈরি করতে চান, তখন আপনার সম্ভব হলে একাধীক কম্পিউটার দিতেও ভালো ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে।

তবে কমপক্ষে পারিবারিক ভাবে হলেও একটি ডেসকটপ কম্পিউটার রাখা উচিৎ। তা,র বাইরে দেখা যাবে ভবিশ্যতে যখন কোন স্থানে গিয়ে কোন কাজ করতে যাবে, তখন সেখানে হয়তোবা কম্পিউটারের ব্যবহার করে রেজিসট্রার্ড করে নিতে হবে, তখন সেটি দেখে ভয় পাবে। তাই কারো না কারো সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে, আবার শিক্ষা আর চাকরির ক্ষেত্রেও এই কম্পিউটারের ভূমিকা অপরিশীম।

কম্পিউটারের বাস্তব ব্যবহার

যদিও আপনি কম্পিউটার কিনে দিচ্ছেন সেটি হোক আপনার ফ্যামিলির জন্য বা হোক স্পেসিফিক ভাবে কোন সন্তানকে। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন, সেটির কোন অপব্যবহার না হয়। কেননা যে এই ডিভাইসটা ঘরে নিচ্ছে তার নিজেরই দ্বায়িত্ব থাকবে এটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

কম্পিউটার যেমন রয়েছে ভালো কিছু করার, ভালো কিছু জানার, ভালো কিছু শেখার মোক্ষোম সুযোগ। সেই সাথে এই কম্পিউটারের ক্ষতিকর দিকের ও যেন নেই কোন শেষ। তাই যদি আপনার আশেপাশের ও কেউ এই কম্পিউটারের ক্ষতিকর কোন বিষয়ে ফেশে যায়, তাহলেও সেটির ক্ষতি আপনার ভোগের অংশ হতে পারে। কম্পিউটারের বেসিকেলি যে সকল ক্ষতিকর বিষয়ে লক্ষ্য রাখা জরুরি, সেগুলো নিয়ে সংক্ষেপে ধারনা দিচ্ছি।

কম্পিউটারের ক্ষতির সংক্ষিপ্ত রূপ

ভালোর বিপরীতেই যখন খারাপ লুকিয়ে থাকে, তখন ভালো বস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা দরকার, যদি ভূলেও কখনো খারাপ অংশে দেখতে যান, বা কৌতুহলী হয়ে যদি কখনো ভালোর সীমানা ছাড়িয়ে বেরিয়ে যান, তাহলে আপনাকে খারাপ দিকের ক্ষতির প্রভাবে জড়িয়ে পড়তেই হবে। বিশেষ যে সকল খারাপ দিকের সম্মুক্ষীন হতে পারেন সেগুলো হলোঃ

  • দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহারে চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  • গেম, সোশ্যাল মিডিয়া বা ভিডিওর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
  • ভার্চুয়াল যোগাযোগের কারণে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক দূরে সরে যেতে পারে।
  • হ্যাকিং, ফিশিং, ডেটা চুরি, এবং অনলাইন প্রতারণা এখন একটি বড় সমস্যা।
  • পড়াশোনার সময় ভিডিও গেম বা ইউটিউব ব্যবহারে সময় নষ্ট হয়।
  • দীর্ঘসময় বসে থাকার কারণে শরীরে স্থূলতা ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
  • ইন্টারনেট থেকে সহজে কনটেন্ট কপি করে পরীক্ষায় বা কাজে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া যায়।
  • মনিটরের আলো ও স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের ক্লান্তি ও দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হতে পারে।
  • অটোমেশন ও কম্পিউটারাইজেশনের ফলে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে।

আবার এই সাথে আরো বিশেষ বিশেষ সময়ে আমরা আরো কিছু ক্ষতিকর প্রভাব দেখতে পারি। তবে যখন এই ক্ষতির অংশকে এড়িয়ে চলতে পারি, তখন আমরা খুব ভালোভাবেই আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কম্পিউটার ব্যবহার করে নিজেদের জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে পারি আর বিভিন্ন কঠিন কঠিন সমস্যাকে সংক্ষিপ্ত করে নিয়ে আসতে পারি।

কম্পিউটার ব্যবহারে জীবনের উন্নতি

শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতি, পথচলা, যুদ্ধ কোথাও যেন ককমতি রাখেনি এই কম্পিউটারের প্রভাব। সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে যুগের এই অদ্ভুদ আবিষ্কার। জীবনের প্রতিটি ঘাটে ঘাটেই পড়েছে এর বড় এবং বিস্তৃত প্রভাব। কম্পিউটারের ব্যবহার আমাদের মানব জীবনে এতোটাই বিস্তৃত হয়েছে যে এটি নিয়ে একটি ব্লগ পোস্ট নয় বরং সম্পুর্ন একটি ব্লগ সাইটের আলোচনায় ও শেষ করা সম্ভব নয়। তবে এখানে আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অংশগুলোকেই তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

শিক্ষায় কম্পিউটারের ব্যবহারঃ প্রতিটি স্কুলেই বর্তমানে প্রায় কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভাবে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। যখন কেউ কম্পিউটারের ব্যবহার করতে জানে, সে খুব সহজে তার প্রয়োজনীয় পড়া এবং পড়ার মধ্যে থাকা সমস্যার সমাধান খুজে বের করে নিতে পারে।

হতো একজন শিক্ষকের কাছেও এতো ভালো ভাবে বুঝতে পারে না, যা ঘন্টার পরে ঘন্টা ইন্টারেনেটের বিভিন্ন ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে, বিভিন্নন উন্নত গ্রাফিক্সের ভিডিওর মাধ্য়মে, ai এর সাহায্যে বুঝতে পারে। কখনো কখনো লম্বা সময়ের পড়াকে মাত্র কয়েক মিনিটেও শেষ করতে পারে। বোরিং হয়ে বা ক্লান্তি বোধ করার ও তেমন কোন বিশেষ কারন থাকে না।

যোগাযোগ ও বুদ্ধির বিকাশঃ বর্তমান সময়ে যদি কোন প্রযুক্তির ব্যবহার না জানা মানুষের কথা কল্পনা করেন, তাহলে দেখতে পাবেন তাকেই সমাজের সব থেকে ছোট বা সব থেকে বোকা হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। তাই বুদ্ধির বিকাশের জন্য, এবং সহয্য যোগাযোগের ব্যাপারে এই ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নতি জীবনকে অনেকাংশে উন্নত করেছে, সেদিকে আমাদের দক্ষ্যতা থাকা আবশ্যক।

একটা শিশুর বেড়ে ওঠার বয়সে, তাকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষ্যতা প্রদান করাও একটা গুরুত্বপূর্ন দ্বায়িত্ব রয়েছে। এজন্য অবশ্যই নিজের বাসায় এই ধরনের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন চর্চার প্রয়োজন আছ, সেই সাথে এগুলোর জন্য সকল ডিভাইস যেমন কম্পিউটার, মোবাইল, ঘড়ি সহ বিভিন্ন ডিভাইস বর্তমান সময়ে প্রত্য়েকটি বাসা বাড়িতে খুবই গুরুত্বপূর্ন একেকটা অংশ হয়ে উঠেছে।

বেকারত্ব দূর হবে যেভাবে

কম্পিউটার শুধুমাত্র যোগাযোগ এবং বিনোদনের মধ্যেই সিমাবদ্ধ নয়। এটি ইনকামের ও অন্যতম একটি রাস্তা। আপনারা ইতোমধ্যে কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন উপায়ে ইনকামের বিভিন্ন কথা শুনে থাকবেন হয়তো। তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত কিছু ইনকামের উপায় হচ্ছে

  • কম্পিউটার প্রশিক্ষন কেন্দ্র
  • কম্পিউটারের কম্পোসের কাজ
  • কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যাল্সিং কাজ
  • কন্টেন্ট তৈরি
  • বিভিন্ন অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা করা

আরো অনেক অনেক ভাবেই ইনকামের বিভিন্ন পথ রয়েছে এই প্লাটফর্মের মধ্যে। তবে যখন কেউ এটি নিয়ে বেসিক ভাবে ধারনা নিতে থাকে এবং বেসিক ভাবে কাজের জন্য প্রয়োগ করে, তখন তার এসব ইনকামের রাস্তায় না যাওয়াই ভালো, কারন এটি তখন বিপদের কারন হতেও দেখা যায়।

তবে যখন আমরা কোন অফিসের কথা চিন্তা করি, তখন সেখানে থাকা যতগুলো কর্মচারি থাকে, তাদের মধ্যে যিনি কম্পিউটার দক্ষ্য থাকেন, তার সম্মান এবং তার প্রয়োজন সেখানে ততই বেশি থাকে। তাই এটি অন্যতম একটি মাধ্যম হতে পারে বেকারত্ব হটানোর জন্য। তাছাড়াও ভবিশ্যত বিশ্বে কম্পিউটারের মাধ্যমেই অধিকাংশ কাজ সম্পুর্ন হয়ে থাকবে সেজন্য এটি শিক্ষা করা গুরুত্বপূর্ন, না হলে অনেক পরিমানে বেকার তৈরি হতে পারে।

উন্নত বিশ্বে কম্পিউটারের প্রয়োগ কেমন

কম্পিউটার বা এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার এখন নিয়মিত একটা রুটিনের অংশ হয়ে গেছে, যেখানে মানুষ নিয়মিত খাবার খায়, নিয়মিত ঘুমায়, ঠিক তেমন ই এখনকার সময়ে আমরা নিয়মিত কম্পিউটার ও ব্যবহার করে থাকি। বিশ্বের প্রয় সকল দেশেই কম বা বেশি পরিমানে কম্পিউটারের প্রয়োগ রয়েছে। তবে আমরা লক্ষ্য করতে পারি যে, উন্নত দেশগুলোয় বেশি পরিমাণে কম্পিউটারের ব্যবহার রয়েছে।

আপনি যদি জাপান এবং বিপরীতে উগন্ডার কথা চিন্তা করেন, তাহলে জাপান একটি উন্নত দেশ, আর পক্ষান্তরে উগন্ডা একটি নিম্মস্থরের দেশ। অথচ জাপানের মানুষের তুলনায় উগন্ডার মানুষ বেশি বিশ্রিঙ্খল আর বেশি হতাশাগ্রস্থ এবং বেশি পরিশ্রম করে থাকে। এই দিকে আমরা দুটো দেশের কম্পিউটার ও বিভিন্ন প্রযুক্তির কথা চিন্তা করলে জাপানের প্রতিটি মানুষ বেশ পরিমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর উগন্ডার কথা তো বলার প্রয়োজন ই হচ্ছে না।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা তথ্য অনুযায়ী জাপানের ৮০-৯৫ শতাংশ মানুষেই কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত আছে, অর্থাৎ তাদের পরিবারে কম্পিউটার রয়েছে। আর অপর দিকে উগন্ডায় ২০২২ সালের তথ্যে মাত্র ২-৩ শতাংশ মানুষ কম্পিউটারের সাথে সম্পর্কিত আছে। তাই এখানে তাদের সমাজের অনেক কিছুই তুলনা করা যেতে পারে, যা উন্নত অবস্থানে জাপান রয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র≈ 93 % (ঘরে কম্পিউটার রয়েছে)
  • জার্মানি≈ 88.1 % (ঘরে কম্পিউটার)
  • OECD (গড়)≈ 79 % (ঘরে কম্পিউটার)
  • জাপানে ৭০-৯৫ % (ঘরে কম্পিউটার)

তথ্যটি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে।

শেষ কথা সারাংশ

কম্পিউটার যতটা সুবিধার জন্য এবং যতটা উপকারী, ঠিক তেমন অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতির কারন হয়ে আসতে পারে। যেমন এডাল্ট কন্টেন্ট এবং জুয়ার মতো বিভিন্ন খারপ কাজেও লিপ্ত হতে পারে একটা উঠতি বয়সের তরুন বা তরুনি। তাই তাদের সঠিক ভাবে প্রয়োজনিয় শিক্ষাই দিতে হবে, ভালোগুলো শেখানো যেমন একজন শিক্ষক এবং পিতা মাতার দ্বায়িত্ব, তেমন খারাপটা থেকে দূরে রাখাও দ্বায়িত্ব তাদের ই।

উন্নত সমজের সাথে তাল মেলানোর জন্য অবশ্যই কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবহস্থা করা উচিৎ।

arifuldaria1
arifuldaria1https://newmobiledokan.com
বেশ কিছু বছর যাবৎ আমরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারন জনগনকে প্রয়োজনীয় তথ্য সমন্ধে জানিয়ে দিতে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্লগিং করি। আমাদের কন্টেন্ট মানুষের জন্য উপকারি হবে ভেবেই আমরা কন্টেন্ট তৈরি করি।

Related articles

Recent articles